![]() |
| হাউস অফ লাইফ |
মানুষ যখন কথা বলতে শিখল, তখন থেকেই শুরু হলো গল্প বলার যুগ। কিন্তু গল্পের সেই কথাগুলো যখন কাগজে বন্দি হলো, তখনই জন্ম নিল বই, আর বইয়ের সঙ্গে জন্ম নিল বইপ্রেম। প্রাচীন মিশরের হাউজ অফ লাইট এমন যায়গা যেখানে বইপ্রেমীরা জড়ো হতেন, একসাথে আড্ডা দিতেন, বই নিয়ে কথা বলতেন, নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করতেন।
প্রায় চার হাজার বছর আগে, প্রাচীন মিশরে “Per Ankh” নামে এক আশ্চর্য প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। যার অর্থ “House of Life”, অর্থাৎ জীবনের ঘর । এটি ছিল বিশ্বের প্রথম সংগঠিত পাঠাগার ও শিক্ষাকেন্দ্র। পুরোহিত, চিকিৎসক, লেখক ও পাঠকরা এখানে একত্রে বসে পড়াশোনা করতেন, জ্ঞান ভাগাভাগি করতেন, প্যাপিরাসে লেখা বইয়ের অনুলিপি করতেন। তারা বিশ্বাস করতেন বই হলো দেবতাদের ভাষা, আর পাঠ মানে জ্ঞান ও জীবনের একাত্মতা।
সভ্যতার জ্ঞানের দুর্গে এরপর আসে আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার। এখানে প্রায় ৭ লক্ষের বেশি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ছিল। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পণ্ডিতেরা আসতেন এই লাইব্রেরিতে জ্ঞানের খোঁজে। বলা হয়, এই গ্রন্থাগারেই প্রথমবারের মতো পাঠ ছিল গবেষণা, কৌতূহল ও আনন্দের মিলনস্থল।
যাই হো ফিরে আসি হাউজ অফ লাইফ প্রসঙ্গে,
মিশরের প্যাপিরাস থেকে শুরু করে আজকের ই-বুক রিডার বা মোবাইল অ্যাপে বই পড়া। বইয়ের রূপ পাল্টেছে, কিন্তু বইপ্রেম বদলায়নি। আজও পাঠক বইয়ের পাতায় খুঁজে ফেরে নিজের একান্ত পৃথিবী, ঠিক যেমন “হাউস অফ লাইফ”-এর পুরনো পাঠকরা খুঁজতেন দেবতাদের জ্ঞান। এটি ছিল প্রাচীন মিশরের জ্ঞানচর্চার সবচেয়ে উন্নত কেন্দ্র। এখানে পুরোহিত, চিকিৎসক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা শিক্ষা গ্রহণ করতেন এবং জ্ঞান আদান-প্রদান করতেন। হাউজ অফ লাইফে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি বা আর্কাইভ থাকত, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লেখা প্যাপিরাস (প্রাচীন কাগজের মতো উপাদান) সংরক্ষণ করা হতো।
পাঠকই ছিলো হাউজ অফ লাইফ এর প্রাণ। এখানে সব পাঠক মিলিত হয়ে বই পড়া ছড়িয়ে দিতে নানা আয়োজন করতো। অনেক ধরনের কাজও করতেন।
পান্ডুলিপি তৈরি ছিলো প্রধান কাজ, এটি ছিল একটি স্ক্রিপ্টোরিয়াম, যেখানে নতুন প্যাপিরাস লেখা হতো এবং পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত প্যাপিরাসগুলো অনুলিপি বা মেরামত করা হতো। এই কাজটি অত্যন্ত যত্ন সহকারে করা হতো।
প্রাচীন মিশরীয় সমাজে জ্ঞান সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে হাউজ অফ লাইফ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। হাউজ অফ লাইফ ছিল একটি পবিত্র স্থান, যেখানে জ্ঞানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং বইপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
