পাবলো পিকাসোর প্রিয় বই

পিকাসোর প্রিয় বই

 

পাবলো পিকাসো ছিলেন চিত্রশিল্পী। কিন্তু লেখালেখি কিংবা বই পড়ার প্রতি ছিলো তার তুমুল আগ্রহ। তিনি তিনশোর বেশি কবিতা লিখেছিলেন। তিনি সাহিত্য পড়তে ভীষণ ভালোবাসতেন। বিশেষ করে কবিতা, নাটক ও দর্শনধর্মী বই। নাটকও লিখেছিলেন তিনটি।


আমাদের আজকের পর্ব তার প্রিয় কিছু বই নিয়ে... 



Picasso-র প্রিয় ও প্রভাবশালী বইসমূহ


• Cervantes – Don Quixote 





১৬০৫ সালে প্রকাশিত হয় বইটি। মূলত  স্প্যানিশ সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচনা বইটি। পিকাসো এই বইটিকে খুব পছন্দ করতেন এবং Don Quixote-এর একটি বিখ্যাত স্কেচও এঁকেছিলেন ১৯৫৫ সালে। বইয়ের আদর্শবাদ বনাম বাস্তবতা থিম দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন তিনি।


Charles Baudelaire – Les Fleurs du Mal 





১৮৫৭ সালে প্রকাশিত বইটি মূলত কবিতা সমগ্র। সৌন্দর্য, নৈতিকতা, ও আধুনিক নগরজীবনের দ্বন্দ্ব নিয়ে কবিতাগুলো লেখা। Baudelaire-এর কবিতা পিকাসোকে আধুনিক জীবনের কদর্য ও সৌন্দর্যের সহাবস্থান বোঝাতে সাহায্য করেছিল। তিনি বিশেষ করে “Beauty in decay” ধারণাটি গ্রহণ করেছিলেন এই বই থেকে। Picasso এর Blue Period paintings, যেখানে দুঃখ, একাকীত্ব ও মানবিক বেদনা ফুটে উঠেছে এটি মূলত এই বই থেকে  অনুপ্রাণিত হয়ে করা।


Arthur Rimbaud – A Season in Hell





কাব্যিক গদ্য ধারার বইটি প্রকাশকাল ১৮৭৩ সাল। বিদ্রোহ, আত্মবিরোধ, এবং মানবজীবনের যন্ত্রণা নিয়ে লেখা এই বইটি। Rimbaud এর লেখার মূল বিষয় অরাজকতা ও আত্মসংঘাতের গভীর প্রকাশ। Picasso এই বিক্ষিপ্ত আত্মসন্ধানকে তাঁর সৃষ্টিতে ধারণ করেছিলেন।


• Homer – The Iliad  এবং The Odyssey





গ্রীক পৌরানিক কাহিনি এই দুটি। অন্ধ কবি হোমারের জগৎ শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য ইলিয়াড, অডিসি। 

গ্রিক পুরাণের এই মহাকাব্যগুলো তাঁকে নায়কত্ব ও মানবিক সংগ্রামের রূপক হিসেবে অনুপ্রাণিত করেছিল। এই মহাকাব্যগুলোতে মানুষের নৈতিক দ্বন্দ্ব ও নায়কের মানবিক দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাঁর Minotaur সিরিজ যেখানে মানুষ ও জন্তুর সংমিশ্রণ দেখা যায়, Homer's নায়কদের প্রতীকী রূপে।


Friedrich Nietzsche – Thus Spoke Zarathustra





বইটি মূলত দার্শনিক উপন্যাস। আত্মোন্নয়ন, সৃজনশীল স্বাধীনতা, এবং “Übermensch” ধারণা নিয়ে বিস্তারিত আছে বইটিতে। Nietzsche এর দর্শন ছিল মানুষের নিজের ভেতরের দেবত্বকে জাগানো। প্রচলিত নীতি থেকে মুক্ত হয়ে নিজের সৃষ্টিশক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা। Picasso নিজেকে সমাজের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক সৃষ্টিশীল সত্তা মনে করতেন।

Previous Post Next Post