উত্তরাঞ্চল দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের জ্ঞানের বাতিঘর

বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার একটি উপজেলার নাম চিচিরবন্দর। মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসাবে পরিচিত এলাকা এটি। কোনো বড় বাণিজ্যিক বন্দর নয় বরং এখানকার রেলওয়ে স্টেশন ও গ্রামীণ পরিবেশে আবিষ্ট এলাকা।



চিরিরবন্দর অধিকাংশই গ্রামাঞ্চল হওয়ার পরেও  ছোট্ট এই উপজেলাটি বিখ্যাত 'শিক্ষানগরী’ হিসেবে।সমগ্র উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসে এখানকার স্কুলগুলোতে। শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের মধ্যে জ্ঞানের আলো আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে ২০১৯ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একদল উদ্যমী ছাত্রদের সংগঠন ❝স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব চিরিরবন্দর (স্যাক)❞ এর হাত ধরে প্রায় ৩০০০ বই নিয়ে যাত্রা শুরু করে 'চিরি নদীর বাতিঘর’ গ্রন্থাগারটি। 




নামের মতোই এর কার্যক্রমও অনন্য। প্রতিদিন শত শত পাঠকের আগমনে মুখরিত হয়ে থাকে ছোট্ট এই গ্রন্থাগার। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে বিভিন্নসময় সংবর্ধনা প্রদান, মাসিক পাঠচক্র, সাহিত্যবিষয়ক সভা,চিত্রাঙ্কন,কবিতা আবৃতিসহ বিছিন্ন আয়োজন করে থাকে গ্রন্থাগারটি। তাদের লেখক সত্তার বিকাশ ঘটাতে শিক্ষার্থীদের লেখা কবিতা, গল্প, রচনা নিয়ে বাৎসরিক প্রকাশনাও বের করা হয় এখান থেকে যা ইতিমধ্যেই অত্যন্ত সুনাম কুড়িয়েছে। বর্তমানে এখানে রয়েছে ৪০০০ এরও বেশি বই, পাঁচশতাধিক নিয়মিত পাঠক। 



একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোকছেদ আলী বিনা পারিশ্রমিকে গ্রন্থাগারিক হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন,'একসময় চিরিরবন্দরে কোনো গ্রন্থাগার ছিল না। সেই অভাববোধ থেকে এটি প্রতিষ্ঠা করা। তবে পাঠকদের চাহিদার বিপরীতে বইয়ের অপ্রতুলতা, আসবাবপত্রের অভাব এবং আর্থিক টানাপোড়েন রয়েছে। তবু প্রতিদিন পাঠকদের আগমন আশার আলো জাগিয়ে তোলে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চিরি নদীর বাতিঘর এভাবেই আলো ছড়াতে চায়,একটি সুন্দর বইমুখী জেনারেশন তৈরীর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চায়।


গ্রামে গঞ্জে এমন পাঠাগার পাঠাগার কালের স্রোতে হারিয়ে। সামর্থ্যবান মানুষদের উচিত এমন কার্যক্রমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। ছোট ছোট সামাজিক উদ্যোগ টিকে থাকলে সুন্দর হয়ে উঠবে আমাদের দেশ।


লেখা: পারভেস আহমদ



Previous Post Next Post