বই মেলার সময় বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনড় অবস্থান ও ভাড়ায় ছাড়ের প্রস্তাব: প্রকাশকরা সম্মত হননি।
প্রকাশক ঐক্য থেকে জানানো হয় ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বইমেলার সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রকাশকদের প্রতিনিধিদলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ শুরু করার বিষয়ে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করা হয়েছে। এবং সেই প্রসঙ্গে ৫৫% স্টল ভাড়া মহকূফের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু প্রকাশক ঐক্য সেই প্রস্তুতি রাজি নয়।
প্রকাশকদের দাবী করেন: নির্বাচনী বাস্তবতা, মেলার প্রস্তুতির জন্য কোনো সময় না পাওয়া, প্রেস অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকা, মেলা শুরুর পর পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া সহ ইত্যাদি বিবেচনায় ‘ঈদের পরে মেলা’ আয়োজনের বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্মত হয়নি।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলায় প্রকাশকদের স্টল ভাড়ার ওপর ৫৫% মওকুফ করা হবে। তবে প্রকাশকদের পক্ষ থেকে ভাড়ার ১০০% মওকুফ এবং স্টল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণ ব্যয়ে সরকারি ভর্তুকি প্রদানের যে দাবি জানানো হয়েছিল, মন্ত্রণালয় তাতে অসম্মতি জ্ঞাপন বা অপারগতা প্রকাশ করেছে।
এ প্রসঙ্গে অআ এর পক্ষ থেকে জানতে চাইলে
অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন জানান, প্রকাশকদের মূল আপত্তি কেবল ‘ভাড়া’ নিয়ে ছিল না, তাদের আপত্তি ছিল মেলার ‘সময়সূচি’ নিয়ে। নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠন পরবর্তী সময়, রোজার বন্ধে পাঠকশূন্য মেলায় ৫৫% কেন, ১০০% ভাড়া মওকুফ করলেও প্রকাশকদের লগ্নিকৃত পুঁজি (বই ছাপা, কর্মীদের বেতন, ডেকোরেশন) উঠে আসবে না। একটি ‘প্রাণহীন’ মেলা আয়োজনের সরকারি সিদ্ধান্তের দায়ভার প্রকাশকরা নিতে পারবেন না।
বইমেলা লেখক পাঠক প্রকাশকদের প্রাণের মেলা।
প্রকাশনা একটি শিল্প। এর আর্থিক হিসেব নিকেষ এর ওপর কয়েক লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। মন্দার কারণে বহু প্রকাশক ব্যবসা সীমিত করতে এবং দক্ষ জনশক্তি ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন চলছে বইমেলা নিয়ে দোনামোনা। এমতাবস্থায় কি হবে বইমেলার ভবিষ্যৎ?
