স্কুল লাইব্রেরির তালা খুলবে কে?

 


সাহিত্যের চর্চার জন্য, জ্ঞানের চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি। কিন্তু 

আপনি জানলে অবাক হবেন ১৮ কোটি জনগণের জন্য সরকারি গ্রন্থাগার কয়টি সেই তথ্য জেনে।


মাত্র একাত্তর টি। 


বেসরকারি গ্রন্থাগারের সংখ্যা বারোশত থেকে কিছু বেশি।


খোঁজ-খবর নিলে সচল গ্রন্থাগারের সংখ্যা শ-পাঁচেক হবে। আর অধিকাংশ বন্ধ কিংবা অনুদান গ্রহণের জন্য বানিয়ে রাখা। 


ভূরুঙ্গামারীর একটা ছেলে-মেয়ে চাইলেও বই পড়তে পারে না। সে যে বই পড়বে তার হাতে বই পৌঁছাবে কিভাবে? ধরেন সে যে কোন ভাবে একটা বই জোগাড় করলো সেই বই পড়তে দেখলে শিক্ষক তাকে আস্ত রাখবে? মারলে চাকরি যাবে ভেবে সে ছেড়ে দিলেও শিক্ষার্থীর বাপমায়ের কাছে এমন বিচার দিবে যে বাড়ি গেলে পিঠের ছাল আর আস্ত থাকবে না।


আপনারা পাল্টা প্রশ্ন করেন,'আজকাল কেউ বই পড়তে চায় না'। দশটা ছেলেমেয়ে যদি চায় তাদের পড়ার সুযোগ কই? 


এজন্য দরকার মফস্বল সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে লাইব্রেরি। এর সহজ সমাধান স্কুল লাইব্রেরি।


দেশে প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা এক লক্ষ পনেরো হাজারের মতো, মাধ্যমিক স্কুল একুশ হাজার আর মাদ্রাসা বিশ হাজার মতো। মানে দেশে সর্বমোট দেড় লাখ স্কুল আছে। এবং প্রতিবছর এইসব স্কুলের পাঠাগারের জন্য বরাদ্দও হয়। কিন্তু দেশের অধিকাংশ স্কুলের লাইব্রেরি তালাবন্ধ থাকে, শেষ কবে লাইব্রেরির দরজা খোলা হয়েছে নিজেরাও জানে না। আলমারির চাবি অনেকে হারিয়ে ফেলেছে। আমি হলপ করে বলতে পারি অন্তত নব্বই শতাংশের বেশি স্কুলের লাইব্রেরি কখনোই খোলা হয় না। কিছু স্কুলের লাইব্রেরি চালু থাকলেও নিয়মিত বই লেনদেন হয় না।


স্কুল লাইব্রেরির এই দশা কেন? 


লাইব্রেরির বরাদ্দ কই যাই? 


আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুরোপুরি ব্যার্থ স্কুল লাইব্রেরি সচল রাখতে। এ জন্য আমাদের প্রস্তাবনা হলো, স্কুল লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন কমিশন গঠন করে শিক্ষা এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে এটাস্ট করে আলাদা পরিচালনা পরিষদ গঠন করা। উন্নয়ন কাজের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও যুক্ত হতে পারে। কমিশনের কাজ হবে স্কুল লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনা করা। নিয়মিত বই লেনদেনের পাশাপাশি পাঠচক্র আয়োজন করবে। এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সাহিত্য সচেতন হওয়ার পাশাপাশি, আমাদের মফস্বল, গ্রামাঞ্চলের সাহিত্যও জাতীয় সাহিত্য হয়ে উঠবে। সরকারিভাবে জরুরি ভিত্তিতে স্কুল লাইব্রেরি নিয়ে মুভমেন্ট অতীব জরুরি। 


শুধুমাত্র ঢাকাকে সারাদেশ ভাবলে হবে না। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকেও নাগরিক সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য স্কুল লাইব্রেরি সচল রাখার বিকল্প নেই। খুব দ্রুত আলাদা কমিশন গঠন করে সে আঙ্গিকে ঢেলে সাজাতে হবে লাইব্রেরি কার্যক্রম।


স্কুল লাইব্রেরি সচল এবং শিক্ষকদের বইমূখী করতে না পারলে সাহিত্যের মৌলিক সংকট কখনো দূর হবে না। শিক্ষক নিয়োগে মৌলিক বিষয়াদির সাথে শিক্ষকের পাঠের বিষয়ও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ শুধুমাত্র গ্রন্থাগার দিয়ে পাঠক তৈরি সম্ভব নয়। আর আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থায় নতুন করে প্রতিটি গ্রামে এমনকি ইউনিয়নে অথবা উপজেলা একটা করে পাঠাগার তৈরি এবং তা তত্ত্বাবধান সম্ভব নয়। সংকট মেনে নিয়েই আমাদের স্কুলে স্কুলে  পাঠাগার সচল এবং শিক্ষকদের বই পড়ায় উৎসাহিত করতে হবে। কারণ শিক্ষার্থীদের বইমূখী করতে শিক্ষকদেরই হাল ধরতে হবে। আর এই কাজের জন্য সর্বপ্রথম দরকার স্কুল লাইব্রেরির তালা খোলা।


স্কুল লাইব্রেরি সচল না হলে বই পড়া কর্মসূচীর সুফল পাওয়ার সম্ভবনাও অনেক কম। তাই নতুন প্রজন্মকে বইমূখী করতে যেমন নতুন নতুন বইপড়া কর্মসূচী দরকার ঠিক তেমন দরকার স্কুলের লাইব্রেরি সচল রাখা।

Previous Post Next Post